Social Icons

Friday, October 16, 2015

রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল কারাগারে

রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল কারাগারে

রাজন হত্যার প্রধান আসামি কামরুল কারাগারে
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট অফিস ॥ সারাদেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী শিশু রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। মামলার আরও ২ আসামি শামীম ও পাভেলকে এখনও আটক করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার বেলা ১১টায় আসামি কামরুল ইসলামকে কোতোয়ালি থানা থেকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-২ আনোয়ারুল হকের আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এসি আব্দুল আহাদ বলেন, আসামি কামরুলের বিরুদ্ধে আদালতের ওয়ারেন্ট ছিল। আদালত ওয়ারেন্ট তামিল করে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে কামরুলকে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সড়ক পথে সিলেট নিয়ে এসে মেট্রোপলিটন পুলিশ কার্যালয়ে হাজির করা হয়। সেখান থেকে রাতে তাকে রাখা হয় কোতোয়ালি থানা কার্যালয়ে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কামরুলকে কড়া পুলিশ পাহারায় আনা হয় আদালতে। আদালত থেকে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে। গত ৮ জুলাই সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নের বাদেআলি গ্রামের শেখ আজিজুর আলমের বড় ছেলে শেখ সামিউল আলম রাজনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর হত্যাকারীদের ধারণ করা ২৮ মিনিটের একটি ভিডিওচিত্র ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয় নিজেরাই। নির্যাতনের লোমহর্ষক সেই ভিডিও নজরে আসার পর দেশ-বিদেশে তোলপাড় শুরু হয়।
এদিকে বহুল আলোচিত এ ঘটনার চার মাসেও মামলার আরও ২ আসামি শামীম ও পাভেলের হদিস পায়নি পুলিশ। তারা আদৌ দেশে আছে, নাকি বিদেশে পালিয়ে গেছেÑ তাও নিশ্চিত বলতে পারছে না পুলিশ। তদন্ত শেষে ঘটনার এক মাস আট দিন পর গত ১৬ আগস্ট সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে ‘চার্জশীট’ দাখিল করেন। এর মধ্যে কামরুল ইসলাম, শামীম আহমদ ও পাভেলকে পলাতক দেখানো হয়। ২৪ আগস্ট আদালত চার্জশীট গ্রহণ করে পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তাদের মালামাল বাজেয়াফতের আদেশ জারি করে। ২৫ আগস্ট তাদের মালামাল বাজেয়াফত করে পুলিশ। পাভেলের দিরাইর বাড়িতে অভিযান চালালেও বাজেয়াফত করার মতো তার কোন মালামাল পাওয়া যায়নি। এই তিনজনকে পলাতক দেখিয়ে ৩১ আগস্ট আদালতের নির্দেশে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
রাজন হত্যা মামলাটি দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে বিচারের দাবি উঠেছিল। এমন দাবির প্রেক্ষিতে ২২ জুলাই রাজনের বাড়িতে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসদুজ্জামান খান কামাল ও ২০ আগস্ট আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেছিলেন, রাজন হত্যার বিচার ‘দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে’ হবে। কিন্তু সেটি হয়নি। মামলাটি মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে ৭ সেপ্টেম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়। ২২ আগস্ট সিলেট মহানগর জজ আদালত ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচারকাজ শুরু করে। এতে বিচারক, সংশ্লিষ্ট পুলিশ, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, রাজনের বাবা-মা, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীসহ ৩৮ জনকে সাক্ষী করা হয়। তিনজনকে পলাতক রেখেই ১ অক্টোবর শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ অক্টোবর এই নয় দিবসে ৩৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়। ১৮ অক্টোবর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদারের সাক্ষ্য নেয়া হবে।
মামলায় চার্জশীটভুক্ত আসামিরা হলো সদর উপজেলার জালালাবাদ থানার কুমারগাঁও এলাকার শেখপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে ও কামরুলের মেজো ভাই মুহিত আলম (৩২), বড় ভাই আলী হায়দার ওরফে আলী (৩৪), ছোট ভাই শামীম আলম (২০), সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ঘাগটিয়া গ্রামের অলিউর রহমান ওরফে অলিউল্লাহর ছেলে মোঃ জাকির হোসেন পাভেল ওরফে রাজু (১৮), জালালাবাদ থানার পীরপুর গ্রামের সাদিক আহমদ ময়না ওরফে বড় ময়না (৪৫), পূর্ব জাঙ্গাইল গ্রামের মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিনের ছেলে ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ ওরফে নূর মিয়া (২০), শেখপাড়া গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন আহমদের ছেলে দুলাল আহমদ (৩০), সুনামগঞ্জের দোয়ারা উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের জাহাঙ্গীরগাঁওয়ের মোস্তফা আলী ওরফে পেঁচার ছেলে আয়াজ আলী (৪৫), শেখপাড়া গ্রামের সুলতান মিয়ার ছেলে তাজউদ্দিন আহমদ ওরফে বাদল (২৮), সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দোলারবাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুর্শি ইসলামপুর গ্রামের মৃত মজিদ উল্লাহর ছেলে মোঃ ফিরোজ আলী (৫০), কুমারগাঁওয়ের (মোল্লাবাড়ি) মৃত সেলিম উল্লাহর ছেলে মোঃ আজমত উল্লাহ (৪২) ও হায়দরপুর গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে রুহুল আমিন রুহেল (২৫)। তাজউদ্দিন বাদল ও রুহুল আমিন ছাড়া বাকি ৮ জন রাজন হত্যা মামলায় আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে। হত্যাকা-ের পর মুহিত আলমের স্ত্রী লিপি বেগম ও শ্যালক ইসমাইল হোসেন আবলুসকে গ্রেফতার করা হলেও অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

No comments:

Post a Comment

 
 
Blogger Templates