গুয়েতমালায় ভূমিধসে নিহত ২৬
অনলাইন খবর ডটকমঃ
গুয়েতমালার রাজধানীতে বৃহস্পতিবার ভূমিধসে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ হয়েছে আরো শত শত মানুষ। ওই ভূমিধসে ১২৫টির মত ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও বিবিসি।
গুয়েতমালা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার পূর্বের শান্তা ক্যাটারিনা পিনুলা শহরে এবং ই১ ক্যামব্রেই২ নামের একটি ছোট গ্রামে বৃহস্পতিবার ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে।
দেশটির প্রেসিডেন্টের ছেলে এবং ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটিং এজেন্সি ফর ডিজেস্টার রিডাকশনের প্রধান আলেজান্দ্রো মালডোনাডো (সিওএনআরএডি) শুক্রবার জানিয়েছে, ‘এ পর্যন্ত ১৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।’
তিনি জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে কমপক্ষে তিন শিশুও ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার সারাদিন ধরেই বহু উদ্ধারকর্মী, পুলিশ, সেনাসিদস্য এবং আশপাশের মানুষ জীবতদের উদ্ধারে মাটি এবং ধ্বংসাবশেষ তন্ন তন্ন করে খুঁজেছেন।
কাঁদামাটি এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে ৩৪ জনকে জীবিত টেনে বের করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে ২৫টি মৃতদেহ পাওয়া গেছে। তবে ধ্বংসস্তুপের নিচে আরো বহু মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মালডোনাডো জানিয়েছেন ভূমিধসে যে সমস্ত ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে ধারণা করা হচ্ছে ৬শর মত মানুষ নিখোঁজ হয়েছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই ভূমিধসের সময় নিজেদের বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেকেই বলছে তাদের স্বজনরা ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে যাওয়ায় ফোন করছে এবং ম্যাসেজ পাঠাচ্ছে যেন তাদেরকে তাড়াতাড়ি উদ্ধার করা হয়। জীবিতদের উদ্ধার করে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এপি নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে পুনরায় ভারি বৃষ্টিপাতের কারনে উদ্ধারকর্মীরা অস্থায়ীভাবে উদ্ধারকাজ বন্ধ রেখেছে।
দমকল বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবক দলের মুখপাত্র জুলিও সানছেজ জানিয়েছেন, ভূমিধসে ২৬ জন নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বেশ কিছু শিশুও রয়েছে। এছাড়া আরো ৩৬ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ভূমিধসের প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর এক ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ই১ ক্যাম্ব্রেই শহরটির চারপাশ পাহাড় দিয়ে বেস্টিত। আর ওই শহরের অধিকাংশ ঘর-বাড়ি পাহাড়ের চূড়ায় থাকায় ভূমিধসে এগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মালডোনাডো একটি রেডিওর সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই পাহাড়গুলো ধসে পড়েছে।
No comments:
Post a Comment